লিংকড-ইন

তৈরি করুন একটি আকর্ষণীয় লিংকড ইন প্রোফাইল

প্রফেশনলাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম লিংকড-ইন গোছানোর এটিকেট আমরা অনেকেই জানি না। লিংকড-ইনকে সাজিয়ে আপনি তৈরি করে ফেলতে পারেন দারুন একটি সিভি! লিংকড-ইনে প্রতিটি অপশন ব্যবহার করে সোশ্যাল মিডিয়া সিভি তৈরি করে ফেলতে পারবেন খুব সহজেই। গত পর্বে লিংকড-ইন কি, সেই ব্যাপারে আলোচনা করেছিলাম। আজ জানব কিভাবে একটি আকর্ষণীয় লিংকড-ইন প্রোফাইল তৈরি করবেন।

নিজের সম্বন্ধে জানান

লিংকড-ইন এর প্রথম যে অংশটি, সেটি হল এবাউট। অর্থাৎ আপনি কি, আপনি কে, আপনার অভিজ্ঞতা এসবই জানাতে হবে এই অংশটুকুতে। আপনার লক্ষ্য ও ভিশন স্টেটমেন্ট লিখে ফেলুন এই অংশে। আপনার কাজের কিছু অভিজ্ঞতাও জানাতে পারেন এই অংশে। তবে যেটিকে ভুলে গেলে চলবে না, তা হলে ফার্স্ট ইম্প্রেশন। আপনাকে প্রথম দুই লাইনেই আকর্ষণীয় কিছু কল টু একশন দিয়ে শুরু করতে হবে, যেন আপনার পুরো সারাংশ অন্যরা পড়ে দেখার আগ্রহ পায়। খুব বেশি ইমোজি দিয়ে কৌতুকপূর্ণ বানাবেন না।

আপনার অর্জিত অভিজ্ঞতা

ফেইসবুকে আমাদের WORKS AT লেখার অভিজ্ঞতা সবারই আছে। ঠিক সেভাবেই ব্যবহার করুন এই অংশটি। তবে ফেইসবুকের মত অমুক পেইজের এডমিন, তমুক গ্রুপের মডারেটর এসব অযাচিত জিনিস দিয়ে ভরিয়ে রাখবেন না। এগুলো আওদতে আপনার প্রফেশনাল জীবনে কোনো দরকারে আসে না। এই অপশনে আপনি খুব সহজেই ডকুমেন্ট, ছবি, ভিডিও, যুক্ত করার সুযোগ পাবেন। আপনার কোনো সার্টিফিকেট, অভিজ্ঞতার রিকমেন্ডেশন এই অংশে যুক্ত করতে পারেন। কোম্পানির গোপনীয় কোন তথ্য এই অংশে দেওয়া যাবে না। আপনি কোথাও একটি ট্রেনিং করেছেন বা করিয়েছেন, আপনি বক্তা হিসেবে বক্রতব্য দিয়েছেন, কোম্পানি বা সংস্থায় পাবলিশ হওয়া কোনো ফিচার এখানে আপলোড করুন। একাধিক কোম্পানিতে কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে প্রতি ক্ষেত্রে একই পন্থা অবলম্বন করুন। এছাড়াও আপনি কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় লাইফের কো-কারিকুলার এক্টিভিটিজ এখানে যুক্ত করতে পারেন। সেক্ষেত্রে আপনার ক্লাব বা সংস্থা বা নন-প্রফিট কমিউনিটির পেইজ থাকলে ভাল, না থাকলে কর্তৃপক্ষকে খোলার প্রেশার দিতে পারেন।

লিংকডইন
ডেসক্রিপশন অংশটি সুন্দর করে লিখে ফেলুন

যারা ফ্রেশার তারা ইন্টার্নশিপ, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভিজিট, মেম্বারশিপের মাধ্যমে অভিজ্ঞতার ঘরটি পুরন করুন। পার্ট টাইম, ফুলটাইম, ইন্টার্নশিপ, কন্ট্রাক্ট, সেলফ এমপ্লয়েড ইত্যাদি নানান অপশন দিয়ে আপনি অভিজ্ঞতার অংশটি পূরণ করতে পারবেন। চেষ্টা করবেন Description অংশটি ভালভাবে আপনার কর্মকান্ড, আপনার কাজের ফিল্ডগুলো তুলে ধরার।

আপনার পড়াশোনা

এরপর যে অংশটি আসবে, তা হল আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা। এটিও খুব সহজেই আপনার স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, গ্রাড স্কুলের তথ্য দিয়ে সাজিয়ে নিন। ভাল হয় আপনার সকল সার্টিফিকেট, কো-কারিকুলাম এক্টিভিইজ থেকে অর্জিত সার্টিফিকেট, পুরষ্কার অর্জনের ছবি ইত্যাদি লিংক বা ছবি আকারে আপ্লড করার। খুবই সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। ধীরে ধীরে সাজিয়ে নিতে পারেন।

আপনার পড়াশোনা
পড়াশোনার অভিজ্ঞতা

লাইসেন্স ও সার্টিফিকেশন

এই অংশটি বেশ দারুণ ও প্রয়োজনীয়। আপনি হয়ত সার্টিফাইড একাউন্টেন্ট, বা ল’ইয়ার, কিংবা সাপ্লাই চেইন এনালিস্ট। অথবা আপনার ভাল IELTS/GRE/SAT/GMAT স্কোর আছে। এগুলোর সার্টিফিকেট, নম্বর সহ এখানে যুক্ত করুন। খুব সহজেই যেকোনো রিক্রুটার এই তথ্যগুলো দেখে আপনার ব্যাপারে জেনে ফেলতে পারবে। এছাড়াও আপনার একাডেমিক সার্টিফিকেট, অনলাইন কোর্স সার্টিফিকেট, ট্রেনিং সার্টিফিকেট এখানে যুক্ত করতে পারেন। এইক্ষেত্রে একাডেমিকগুলো সাপনার এডুকেশনংশে করাই ভাল। আর অন্যান্য সার্টিফিকেট এখানে যুক্ত করে দিন।

লিংকড-ইন
আপনার অনলাইন কোর্সের সার্টিফিকেটও যুক্ত করতে পারেন এখানে

স্কিল ও এন্ডোর্সমেন্ট

আপনার যত স্কিল আছে, যুক্ত করে ফেলুন। অবশ্যই ভ্যালিড স্কিলগুলো। সর্বোচ্চ ৫০টি স্কিল যুক্ত করতে পারবেন। যদি আপনি ভাল লিডার হন, লিডারশীপ স্কিল যুক্ত করবেন। ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকলে, এটি যুক্ত করুন।  আপনার সবচেয়ে ভালো ১০টি স্কিল লিঙ্কডইন দেখাবে। আপনার সাথে যারা কানেক্টেড হবেন তাদেরকে লিংকড-ইনের এলগরিদম ভট দিতে বলবে তারা কি মনে করে আপনাদের এই স্কিলের ব্যাপারে।

এনডোরসমেন্ট
সবেচেয়ে বেশি এনডোরস স্কিলগুলো আগে দেখাবে

হয়ত কেউ মনে করবে আপনি আসলেই দক্ষ, অথবা কে না মনে করে স্কিপ করে যাবে। যে স্কিলগুলোতে ভোট বেশি পড়বে, সেগুলো অন্যদের সামনে প্রথমে দেখাবে। এছাড়াও আপনার স্কিলগুলো থেকে আপনার লিস্টের যে কেউ এনডোরস করতে পারবে। হয়ত আপনি ১৫ টি স্কিল অর্জন করেছেন, আপনার কোনো পরিচিত যে আপনার দুইটি স্কিলের ব্যাপারে জানে, সে ওই দুইটি স্কিলে আপনাকে এন্ডোরস করে দিল। যে স্কিলে যত এনডোরসমেন্ট পাবেন, সেটি তত উপরে দেখাবে। আপনার বন্ধুদের দিয়ে প্রথমে এনডোরস্মেন্ট করিয়ে নিতে পারেন। তবে অবশ্যই তারা যেটিতে আপনাকে অভিজ্ঞ মনে করবে, সেটিতে এনডোরস করতে পরামর্শ দিন।

প্রকাশনা

কারো কোন ব্লগ, লেখা, আর্টিকেল, সায়েন্স এনডোরসমেন্ট, জার্নাল ইত্যাদি ছাপা হয়ে থাকলে লিঙ্কসহ সেটি দিয়ে দিন। এখনই নিজের প্রকাশনাগুলোর লিংক সংগ্রহ করে রাখুন। এগুলো আপনার অর্জন। লিংক যুক্ত করার ফলে আপনি কিছু পাঠকও পেয়ে যাবেন।

পুরস্কার

স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে আমরা অনেক পুরষ্কার অর্জনই করে থাকি।  কোন সমাজসেবা মুলক কাজ, কোন খেলাধুলা, স্কাউট, বিতর্ক ইত্যাদি, সেগুলোও এখানে উল্লেখ করতে পারেন। আপনি কোনো বিজনেস কম্পিটিশনে জিতেছেন, কন্টেন্ট রাইটিং এ পুরষ্কৃত হয়েছেন, সেরাদেন মধ্যে ছিলেন, সেরা অর্গানাইজার হয়েছেন, এসবও যুক্ত করে ফেলুন এখানে। চাকরিতে মাসের সেরা এক্সিকিউটিভ পুরষ্কার, বাৎসরিক সেরা এমপ্লয়ির পুরষ্কার এগুলো অর্জনও নতুন মাত্রা দিবে। তবে চেষ্টা করবেন স্কুলে থাকতে ব্যাঙ লাফে ফার্স্ট হয়েছিলেন, এসব না উল্লেখ করতে।

আরও পড়ুনঃ লিংকড ইন – আগামী দিনের প্রফেশনালদের প্ল্যাটফর্ম

প্রজেক্ট

কিভাবে ও কিরকম প্রজেক্ট যুক্ত করবেন, এ নিয়ে অনেকেই সমস্যায় পড়েন। নিত্যদিনের কোনো কর্মকান্ডই অনেকে প্রজেক্ট বানিয়ে ফেলেন। কিংবা কেউ একদিনে একটি এক্সপেরিয়েনসকে প্রজেক্ট হিসেবে উল্লেখ করেন। প্রজেক্টের শুরু আছে, শেষ আছে। প্রজেক্ট ইউনিক। আপনি কোম্পানিতে রমজানের কোন ক্যাম্পেইনে লিড দিয়েছেন, কোনো ২ মাসে সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেইন ২০০ লিড কালেক্ট করেছেন, ক্লাব থেকে একটি বড়সড় সায়েন্স ফেয়ার বা বিজনেস কম্পিটিশন নামিয়েছেন, মহামারির সময়ে ফ্রন্টলাইন যোদ্ধা হিসেবে ফান্ড রাইজ, অকশন, দশ হাজারের দূঃস্থকে খাদ্য সহায়তার কাজ করেছেন, এমন কিছুই প্রজেক্ট হিসেবে যুক্ত করতে পারেন। অবশ্যই সময় উল্লেখ করবেন, কাজের ছবি-সার্টিফিকেট যুক্ত করে ভ্যালু এড করার চেষ্টা করবেন।

প্যাটেন্ট

আপনার কোন নতুন আইডিয়া যা কিনা আপনার নিজের বা কোম্পানির জন্য বিরাট সাফল্য বয়ে এনেছিল, এখানে সেগুলো উল্লেখ করুন। আপনি হয়তো কোম্পানিতে কোন একটা পলিসি তৈরি করে দিয়ে এসেছেন, যেটা আগে ছিলো না। আর সায়েন্টিফিক প্যাটেন্ট হলে তো কথাই নাই, এগুলো মহামূল্যবান সম্পত্তি আপনার। দ্রুত প্যাটেন্ট করে নিজের করে নিন। এরপর আপনার প্যাটেন্ট যুক্ত করে ফেলুন।

টেস্ট স্কোর

এই অংশে আপনি IELTS/GRE/SAT/GMAT স্কোরগুলো উল্লেখ করে দিবেন। সাথে যুক্ত করে দিবেন এসবের প্রফেশনাল সার্টিফিকেট ও মেয়াদ।

সংস্থা

আপনি কোন কোন সংস্থার মেম্বার, কাজ করছেন, পদে আছেন এটি এখানে উল্লেখ করতে পারেন। চেষ্টা করবেন স্বায়ত্ত্বশাসিত সংস্থা যেমন ইউনিসেফ, জাগো ফাউন্ডেশন, ইএমকে সেন্টার এসব সংস্থার মেম্বারশিপ এখানে উল্লেখ করতে।

ভাষা

আপনি আপনার মাতৃভাষা ও ইংরেজি বা স্প্যানিশ যেটাই পারেন, এখানে উল্লেখ করে দিন। দুই তিনটি বিদেশি ভাষা জানা থাকলে আপনার অভিজ্ঞতায় আরও কিছু মাত্রা যুক্ত হবে।

এই কোয়ারেন্টাইনের সময়টায় চাইলেই লিংকডইন প্রোফাইল গুছিয়ে নিতে পারেন, কোয়ারেন্টাইন শেষে নতুন দুনিয়ায় আপনার সাজানো প্রফাইলটি ভাল একটি জব অফারের জন্যে সহায়ক হতে পারেম। আর প্রফেশনাল সাহায্য প্রয়োজন হলে আমাকে নক করতে পারেন।

আমার প্রোফাইলঃ আহমেদ ইমরান হালিমী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *